তেলাপিয়া চাষের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশে তেলাপিয়া চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি, মনোসেক্স পোনা মজুদ, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, এবং উন্নত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ৪-৬ মাসে ভালো ফলন (শতাংশ প্রতি ৪০-৬০ কেজি) পাওয়া সম্ভব; এটি সহজ, দ্রুত বর্ধনশীল, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম একটি লাভজনক মাছ চাষ।
১
পুকুর প্রস্তুতি
শুকানো ও পরিষ্কার:
প্রথমে পুকুর শুকিয়ে অবাঞ্ছিত মাছ ও ব্যাঙ দূর করতে হবে। না শুকানো গেলে রাসায়নিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
চুন প্রয়োগ:
প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন ছিটিয়ে দিন।
সার প্রয়োগ:
চুন দেওয়ার ৩ দিন পর, প্রতি শতাংশে ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম ইউরিয়া মিশিয়ে সার দিন। সার দেওয়ার পর পানি সবুজ হলে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত হয়।
২
পোনা মজুদ
জাত:
মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হয়, যা দ্রুত বাড়ে এবং স্ত্রী মাছের চেয়ে পুরুষ মাছের বৃদ্ধি বেশি হয়।
আকার ও সংখ্যা:
৫-৬ গ্রাম ওজনের পোনা ছাড়ুন। প্রতি একরে (প্রায় ৪০ শতাংশে) ১,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ পোনা ছাড়া যেতে পারে।
৩
খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা
খাদ্য:
উচ্চ প্রোটিনযুক্ত (প্রায় ৩৫%) ভাসমান ফিড ব্যবহার করুন। মাছের মোট ওজনের ১০-১৫% হারে দিনে ৩-৪ বার খাবার দিন।
খাবার ব্যবস্থাপনা:
খাবার সমানভাবে ছড়িয়ে দিন। ভালো ব্যবস্থাপনায় FCR (Feed Conversion Ratio) ১.৭৫-এর নিচে রাখা সম্ভব।
৪
পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ
তাপমাত্রা ও pH:
২৫°C - ৩০°C তাপমাত্রা এবং ৬.৫ - ৮.৫ pH বজায় রাখা ভালো।
অক্সিজেন:
অক্সিজেনের অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনে এয়ারেটর ব্যবহার করুন।
ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ:
সাপ, ব্যাঙ এবং অন্যান্য শিকারি প্রাণী থেকে মাছকে রক্ষা করতে জাল দিয়ে পুকুরের চারপাশে বেড়া দিন।
৫
চাষ পদ্ধতি
সিস্টেম:
পুকুর, খাঁচা (cage culture), বা ধান ক্ষেতের সাথে সমন্বিত (integrated rice-tilapia) পদ্ধতিতে চাষ করা যায়।
সময়কাল:
৪-৬ মাস চাষের পর মাছ বাজারজাত করার উপযোগী হয়।
তেলাপিয়া চাষের সুবিধা
সহজ ব্যবস্থাপনা ও উচ্চ বাজার চাহিদা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং বিভিন্ন পরিবেশে চাষের উপযোগী
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!